রাঁচি

 

অ্যাপেটাইজার যার দারিংবাড়ি-গোপালপুর, সবাই ভাববে এ তো মেনকোর্সে নির্ঘাত আন্দামান বা রাজস্থান নেবে। কিন্তু, ডাক্তার বারেবারে অল্পঅল্প খাবার নিদান দিয়েছেন বলে, তাঁর কথামতই অর্ডার করলাম – রাঁচি। রাঁচির প্ল্যানটা ছিল বর্ষার পরপরই – পুজোর ঠিক আগের সপ্তাহে। সেই যাওয়াটা শেষপর্যন্ত হয়ে উঠল কালীপুজোর আগের সপ্তাহে – বর্ষা আর কাজের চাপ মাথা থেকে নামিয়ে।

১ম দিন

সপ্তাহের শেষে সামান্য দুদিনের ট্রিপ; শীতেরও বালাই নেই। কাজেই, আমাদের গোছাবার তেমন কিছুই ছিলনা। শুধু, মনে করে ছাতাটা নিলাম বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল বলে। সুভাষদার (যোগাযোগঃ ৯৭৩৩৭ ১২১৩৩) গাড়ি করে খড়্গপুর ষ্টেশনে ঢুকলাম রাত সাড়ে এগারোটার দিকে। ১৮৬১৫ ক্রিয়াযোগ এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্ম ছাড়লো একেবারে কাঁটায় কাঁটায়।

২য় দিন

অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো সাড়ে ছটায়; দাঁত মেজে রেডি হতে হতেই ট্রেন রাঁচি ঢুকে গেলো। আমরা বাইরে এসে ..

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_1

… একটা গাড়ী বুক করে বেরিয়ে পড়লাম প্রাতরাসের খোঁজে। শহরের বাইরে, একটা গুমটি দোকানে ব্রেকফাস্ট সারলাম, লুচি-সব্জি-রসগোল্লা আর স্থানীয় দুস্কা (ইডলি ভেজে মুচমুচে করা একটা পদ) দিয়ে। এরপর চললাম, আমাদের প্রথম গন্তব্যের দিকে। রাঁচি শহর থেকে  গেতালসুদ ড্যাম পৌঁছতে লাগলো মিনিট চল্লিশেক।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_2

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_3

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_4

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_6

ড্যাম থেকে বেরিয়ে গাড়ি চলল শাল-সেগুনের বনের মধ্যে দিয়ে।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_7

হুন্ড্রু (বা, হুড্রু) জলপ্রপাত আমাদের পরের স্পট। যথাস্থানে পৌঁছে ২৫ টাকার পার্কিং আর মাথাপিছু ৭ টাকা দিয়ে এন্ট্রিফি জমা করলাম। গাড়ি থেকে নেমে পাঁচ মিনিট হেঁটে হাজির হলাম সিঁড়ির সামনে। সেখান থেকেও প্রায় ৮০০ ধাপ নামার পর হল প্রথম দর্শন। 

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_9

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_8

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_10

এরপরের আকর্ষন – সীতা জলপ্রপাত। এখানেও সেই একই পার্কিং আর এন্ট্রিফি; সেসব জমা করে ২৫০খান সিঁড়ি ভেঙ্গে পেলাম জলের দেখা।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_11

 

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_12

জোনহা জলপ্রপাত এর একেবারে পাশেই। আবারও একই পার্কিং আর এন্ট্রিফি জমা করে লাগালাম হাঁটা। এবারেও সিঁড়ি প্রায় ৫৫০এর ধারেকাছে।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_13

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_14

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_15

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_16

তবে সবকটা স্পটেই যথেষ্ট দোকানপাট; সময়মত শসা বা লেবুজল খেয়ে আমরা ধকল কাটিয়ে এবার ফিরে চললাম শহরের দিকে।

লাঞ্চ সেরে শুরু করলাম আমাদের পরের ইনিংস। শুরুর আধঘন্টা কেটে গেল জ্যামেই।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_19

পথে দেখতে পেলাম ধোনির নতুন ফার্মহাউস। আরও এগিয়ে পড়ল রাতু ফোর্ট নাগবংশীদের জমিদারির লুপ্তপ্রায় নিদর্শন (নাগবংশের শেষ জমিদার  মারা যান ২০১8য়)।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_20

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_22

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_23

রাতু রোড থেকে পত্রাতুর দিকে রওনা হতেই শুরু হল বৃষ্টি। পত্রাতু ড্যাম-এর সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম খানিক; কিন্তু বৃষ্টি থামার লক্ষণ না দেখে চললাম পত্রাতু ভ্যালি-র ভিউ পয়েন্ট-এ। ভিউ পয়েন্টে আসতে আসতে বৃষ্টি ধরে এলো অনেকটাই।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_24

চারপাশের মেঘ পরিষ্কার হতে হতে অন্ধকারই হয়ে গেলো। কাজেই, রাঁচির দন্ডিপাক রাস্তাটা আমাদের সেভাবে দেখা হয়ে উঠলোনা।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_25

আমরাও তাই সেদিনের মত ঘোরার পালা সাঙ্গ করে ফিরলাম শহরে। ষ্টেশনের কাছে হোটেল ঊষা কিরণ-এ একটা রুম বুক করলাম। বৃষ্টির আবহাওয়ায় সারা দিনের ক্লান্তি জুড়োতে লাগলো বেশ লম্বা একটা ঘুম।

৩য় দিন

সকালে দোসা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে হাজির হলাম ষ্টেশন-চত্বরে। পথে পেলাম শিবলিঙ্গের আদলে তৈরী একটা মন্দির। শহর শেষ করে কখনও গ্রাম …

… কখনও হাইওয়ে দিয়ে পৌছলাম আজকের প্রথম স্পট – দশম জলপ্রপাত-এ। এখানে কোন এন্ট্রিফি চাইলো না; শুধু ৩০ টাকা দিতে হল পার্কিংবাবদ। প্রায় ৭০০র কাছাকাছি সিঁড়ি নেমে হাজির হলাম ফলসের সামনে।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_30

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_31

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_32

এরপরের গন্তব্যের পথে পেলাম হাইওয়ে দিয়ে বাঁধা ঝাড়খন্ডের গ্রাম্যপট।

সূর্য্য মন্দির-এ যখন এসে পৌঁছলাম, সূর্য্য তখন মধ্যগগনে।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_41

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_42

মন্দির-এর থেকে বেরোতেই চোখে পড়লো নিউনিউ রেস্টুরেন্ট। আমাদের ড্রাইভার জানালো, রাঁচি এলে ধোনি এখানে খেতে আসেই। দুপুর হয়ে গেছিলো বলে, সেখানেই লাঞ্চ অর্ডার করা হল।

শহরের বাইরের সব স্পট শেষ করে আমরা এবার ফিরে চললাম রাঁচির দিকে। শহরের মধ্যে প্রথমেই পেলাম – জগন্নাথ মন্দির

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_47

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_48

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_49

মন্দিরের বাইরে থেকেই দেখা যাচ্ছে রাঁচির ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সেদিন, মাঠে আবার চলছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার ৩য় টেস্টের ২য় দিন।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_50

মন্দির থেকে বেরিয়ে এলাম ধুর্বা ড্যাম-এ।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_51

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_52

পরের স্পটে যাবার রাস্তায় দেখতে পেলাম ধোনির পুরোন বাড়ি।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_53

রাস্তা থেকেই দেখেতে পেলাম রাঁচি লেক। পানায় ঘেরা, নোংরা এই লেকটার আর যাই হোক, দ্রষ্টব্য নয়।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_54

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_55

আমাদের শেষ স্পটে হাজির হলাম বিকেল চারটের দিকে। তখন আবার বৃষ্টি একটু একটু শুরু হচ্ছে। ২০ টাকার পার্কিং দিয়ে ঢুকলাম টেগোর হিল-এ।

বাড়ি ফেরার পথেই বৃষ্টি বাড়তে থাকলো; আর ঠান্ডাও পড়লো জমিয়ে।

ranchi_upperberth_krishnendu_ghosh_68

ঘন্টাতিনেকের রেস্ট সেরে ব্যাগ গুছিয়ে, ডিনার সেরে আমরা ষ্টেশনে ঢুকলাম রাত সাড়ে নটার দিকে। ১৮৬১৬ ক্রিয়াযোগ এক্সপ্রেস এবারও ছাড়লো একেবারে সময়মত। দুদিনের ক্লান্তিতে ঘুম যা এলো …

৪র্থ দিন

… ভাঙ্গলো একেবারে খড়্গপুরের আউটারে, অভিজিতের ডাকে।

 

খসড়া